বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
নিজেই ‘আক্রান্ত’ চৌদ্দগ্রামের কালিকাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র: নেই ডাক্তার, সেবা বঞ্চিত ২৫ হাজার মানুষ; কবিতা: আমার দোষ থাকবেই ; পঞ্চগড়ের সাংবাদিক আবু তাহের আনসারী আর নেই ; জনতার বিপদে ছায়ার মতো পাশে থাকা পরীক্ষিত নেতা মো: রহিজ ব্যাপারি: ৮নং ওয়ার্ডবাসীর হৃদয়ের স্পন্দন; পানিবন্দি ১৫ পরিবার, খবর পেয়ে সহায়তার হাত বাড়ালেন ইউএনও; আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া ডিগ্রি কলেজের ৮ কম্পিউটার চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি; কবিতা: বৃক্ষ এক মহারাজা ; এনায়েতপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগ নেতার মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কোরবান আলীর সংবাদ সম্মেলন; ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের শিক্ষক,শিক্ষিকা,এমসি, জিসিদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ; আত্রাইয়ে নিজ ঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার;

নিজেই ‘আক্রান্ত’ চৌদ্দগ্রামের কালিকাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র: নেই ডাক্তার, সেবা বঞ্চিত ২৫ হাজার মানুষ;

  • Update Time : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

মোঃ মাসুদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:

চিকিৎসক সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। দুইজন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে একজন চিকিৎসকও কর্মস্থলে নেই। ফলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে থাকা এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ছয়টি ভবনই জরাজীর্ণ। চারপাশে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ভাঙাচোরা অবকাঠামো দেখে মনে হয়, হাসপাতালটি যেন নিজেই নানা সমস্যায় জর্জরিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এটিকে ১০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হলেও একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান বিবেচনায় ২০১২ সালে পুনরায় ১০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করা হয়। কিন্তু মাত্র চার মাস পর চিকিৎসক সংকটের কারণে ভর্তি বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে শুধুমাত্র বহির্বিভাগ চালু থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. নুরজাহান বেগম ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন। অন্যদিকে, অপর চিকিৎসক ডা. সুব্রত কুমার শাহ গত ৫ জুলাই থেকে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই।
চিকিৎসা নিতে আসা কালিকাপুর ইউনিয়নের জামমুড়া গ্রামের শাহজাহান ও মোহাম্মদ হাফেজসহ একাধিক রোগী অভিযোগ করে বলেন, “চিকিৎসা নিতে এসে প্রায়ই ডাক্তার পাওয়া যায় না, প্রয়োজনীয় ওষুধও মেলে না। দীর্ঘদিন ধরে একজন চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর পরিবর্তে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।”
স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্টোরকিপার শাহ আলম জানান, নিয়ম অনুযায়ী এখানে দুইজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজনও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন না।
কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির মাহমুদ বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির গুরুত্ব অনেক। এটিকে ২০ বা ৩০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা কিংবা আধুনিক ট্রমা সেন্টারে রূপান্তর করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরাও দ্রুত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা পাবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, “ডা. নুরজাহান যোগদানের পরদিন থেকেই অনুপস্থিত। যতটুকু জানা গেছে, তিনি বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান। চিকিৎসক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে ট্রমা সেন্টারে রূপান্তরের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews