
মোঃ মাসুদ রানা; কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
পুলিশের পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ডালপাড় বিলে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। কুমিল্লার দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই আসামিকে ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার বিকেল ৫টার দিকে গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। তাঁরা সম্পর্কে খালাতো ভাই।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই সকালে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছতলা এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে একটি বাড়িতে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশ ও অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে ভুক্তভোগী সেখান থেকে বের হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে ঘটনাটি জানান।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি আলোচনায় এলে গত ৮ জুলাই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং আদালতে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দেবিদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইমাম হোসেন বলেন, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ডালপাড় বিলের মাঝখানে একটি অস্থায়ী ঘরে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা বিলে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছিল। মামলার ১১ দিনের মাথায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁরা কোনো নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।