আংশিক কমিটি ও আবু কালাম আজাদের বহিষ্কার নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, পুনর্গঠনের দাবি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়কের
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু কালাম আজাদের বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে দলের তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, হামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্য দিয়ে যারা দলের রাজনীতি ধরে রেখেছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।
দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাইরুজ্জামান এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীরা আজ অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক অতীত নিয়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন রয়েছে—এমন ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন। এ ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দলের তৃণমূলের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, আবদুল কাইয়ুম সরকার ও নজরুল ইসলাম সরকারকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও ১৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের এসব প্রশ্ন ও ক্ষোভের যথাযথ জবাব না দিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনের অভিযোগও উঠছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু কালাম আজাদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি একজন স্পষ্টবাদী ও প্রতিবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর নেতৃত্বে অনেক নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন বলে দাবি করেন নাইরুজ্জামান। এমন একজন নেতাকে বহিষ্কার করে দলের কোন স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মো. নাইরুজ্জামান বলেন, যে নেতার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ, তাঁকেই বহিষ্কার করে কীভাবে দেবিদ্বার বিএনপিতে সাংগঠনিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব? দলকে শক্তিশালী করতে হলে নেতাকর্মীদের মতামত, ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
এ পরিস্থিতিতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের প্রতি তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দাবিগুলো হলো—
১. আবু কালাম আজাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।
২. বিতর্কিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
৩. দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বিএনপি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সাংগঠনিক পদ দিয়ে কাউকে নেতা হিসেবে পরিচিত করা গেলেও ত্যাগ, ভালোবাসা ও মানুষের আস্থা ছাড়া হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া যায় না।
দেবিদ্বার বিএনপিকে বিভক্ত করে নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবাদী নেতাদের বহিষ্কার করে নয়, তাঁদের সম্মান ও মূল্যায়নের মাধ্যমেই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা পদ চাই না, ন্যায়বিচার চাই। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, দলের ঐক্য চাই। সুবিধাবাদীদের পুনর্বাসন নয়, ত্যাগীদের মূল্যায়ন চাই।”
বিবৃতির শেষাংশে বিতর্কিত কমিটি পুনর্গঠন, আবু কালাম আজাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিতে সাংগঠনিক ঐক্য ফিরিয়ে আনার জন্য কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।