মোঃ নাসিরউদ্দিন সটাফ রিপোর্টার ;
ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম সংকট, কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের প্রতিবাদে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
আজ [তারিখ ২১ বুধবার] সকাল ৮টা থেকে হাসপাতালটির সব ওয়ার্ডে একযোগে এ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। হঠাৎ এই কর্মবিরতির ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত অসহায় ও সাধারণ রোগী চরম ভোগান্তি ও চিকিৎসার অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, উল্টো স্বজনদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এছাড়া হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৫ দফা দাবি:
১. হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম অবিলম্বে নিশ্চিত করা।
২. চিকিৎসকদের সার্বিক কর্মপরিবেশ ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজনকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।
৪. নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে সব ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টা আনসার বা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি সুনিশ্চিত করা।
৫. জরুরি রোগীদের দ্রুত সেবা প্রদানে অবিলম্বে পৃথক ‘ক্যাজুয়ালটি বিভাগ’ চালু করা।
আন্দোলনরত চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের এই যুক্তিসংগত দাবিগুলো লিখিতভাবে না মানা পর্যন্ত এবং সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসা পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন।
এদিকে সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে তীব্র চিকিৎসক সংকট। ইনডোর ও আউটডোরে সেবা নিতে আসা শত শত রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেক রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে ছটফট করতে দেখা গেছে। চিকিৎসা না পেয়ে অনেককে বাধ্য হয়ে অন্য বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে স্থানান্তরিত হতে হচ্ছে।
ভূক্তভোগী রোগীদের স্বজনরা বলছেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি যেমন গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত, তেমনি দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীদের জীবন বাঁচানোও রামেক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। দ্রুত সময়ে সমাধান না হলে সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের মতে, চিকিৎসকদের জীবনের নিরাপত্তা এবং সঠিক সেবা দেওয়ার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব। অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা সচল রাখাও অত্যন্ত জরুরি। উদ্ভূত এই সংকট নিরসনে হাসপাতাল প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সাথে আলোচনায় বসে একটি কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান বের করা।