সোহরাওয়ার্দী হোসেন,
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত এই উৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্য ও সার্বিক শুভকামনা ব্যক্ত করে ধর্মীয় ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন:
শ্রীকৃষ্ণ বলেন:
“শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে, তখনই ভক্তদের রক্ষা ও দুষ্কৃতকারীদের দমনের জন্য অবতার রূপ ধারণ করেন। মা দুর্গার আগমন আমাদের শেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে।”
শ্রীকান্ত বলেন:
“শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক মিলনমেলা। এই পূজার মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হয়। আমরা সবাই মিলে এক সুন্দর ও হিংসামুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চাই।”
কুমারী রত্নমালা বলেন:
“দেবী দুর্গার আগমনে ধরাতল আজ পবিত্র ও আনন্দময়। মা দুর্গা আমাদের সকল বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন। আমরা প্রার্থনা করি, মা যেন পৃথিবীর সব হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্ধকার দূর করে আলোয় ভরিয়ে দেন।”
স্বাধীন চন্দ্র সরকার বলেন:
শেরপুর উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিশালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী স্বাধীন চন্দ্র সরকার এক শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “সবার জীবনে আসুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ। মা দুর্গার আগমনে সকলের জীবন হোক আনন্দময়, সুখী ও সমৃদ্ধশালী। সবার ঘরে ঘরে জ্বলে উঠুক শান্তির আলো, আর দূর হোক সকল দুঃখ-দুর্দশা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ দিনে আমি বিশালপুর ইউনিয়নসহ সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আসুন, আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে একতাবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপ্রিয় ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করি।”
পূজার সার্বিক আবহ:
বিশালপুর ইউনিয়নের প্রতিটি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন ও আরতির আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকের বাদ্য, ধূপের ধোঁয়া ও কাঁসরের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ নজরদারি রাখছে, যাতে দর্শনার্থীরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন।
উৎসবের শেষে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই শারদীয় দুর্গোৎসব। স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মা দুর্গার কৃপায় সমাজে চিরতরে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও কল্যাণ।