
‘আবদুল আলী সিকদার বংশ সংহতি সংঘ’র সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মাহমুদুল হক সিকদার আর নেই;
আজিজুল আলম, রামু প্রতিনিধি:
রামু-উখিয়ার প্রাচীন জনগোষ্ঠী ‘আবদুল আলী সিকদার বংশ সংহতি সংঘ’র সভাপতি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মাহমুদুল হক সিকদার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি দুই ছেলে, তিন মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, ‘আবদুল আলী সিকদার বংশ’সহ সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার সন্ধ্যা ৭টায় উখিয়ার মধ্যম হলদিয়াপালং কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রামু সেনানিবাসের ১৬ বীর ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দল মরহুমকে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় মরহুমের মরদেহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পতাকা দিয়ে আবৃত করা হয়। সেনা সদস্যরা বিউগলে শোকের সুর বাজিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানান।
জানাজার আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় মরহুমের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন রামু সেনানিবাসের ১৬ বীর ব্যাটালিয়নের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আব্দুর রহমান।
এ সময় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বক্তব্য দেন ‘আবদুল আলী সিকদার বংশ সংহতি সংঘ’র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আলী হায়দার, মরহুমের ছোট ছেলে ইয়াছিন সিকদার, ভাইপো মাস্টার মোহাম্মদ ইসলাম ও মোজাম্মেল হক সিকদার, ধেচুয়াপালং কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব কারী মোহাম্মদ আবু তাহের, রাজনীতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব আবুল মনসুর চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হক আমিন, মাওলানা সুলতান আহমদ, ইউপি সদস্য সরওয়ার কামাল বাদশা, এস এম এনামুল হক, সাইফুল্লাহ সিকদারসহ অনেকে।
স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন ‘আবদুল আলী সিকদার বংশ সংহতি সংঘ’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খালেদ।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন উখিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মাওলানা মুফতি হেলাল উদ্দীন। জানাজা শেষে মধ্যম হলদিয়াপালং সিকদারপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
কর্মজীবন
মাহমুদুল হক সিকদার আবদুল আলী সিকদার বংশের দশম পুরুষ শমশের আলী সিকদার প্রজন্মের সদস্য। তিনি উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মধ্যম হলদিয়াপালং সিকদারপাড়া এলাকার মরহুম আমির মুহাম্মদ সিকদারের চতুর্থ ছেলে এবং মরহুম আলিমুদ্দীন সিকদারের নাতি। তিনি উখিয়া হাঁসিঘর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন সিকদারের বাবা।
মাহমুদুল হক সিকদার ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে নন-কমিশন্ড অফিসার (এনসিও) হিসেবে সার্জেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সামরিক চাকরিজীবন শেষে ২০০৩ সালের ১১ জুন তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
চাকরিজীবনে তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সে (ডিজিএফআই) কর্মরত ছিলেন।
অবসর গ্রহণের পর তিনি উখিয়ার হলদিয়াপালং সিকদারপাড়ার নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। পাশাপাশি তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
মাহমুদুল হক সিকদার ১৯৬৩ সালের ১৫ জুন উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের সিকদারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
সংগঠনের শোক
‘আবদুল আলী সিকদার বংশ সংহতি সংঘ’র সভাপতি মাহমুদুল হক সিকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আবুল মনসুর, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আলী হায়দার, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খালেদ, অর্থ সম্পাদক ও খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার জাফর আলম, যুগ্ম সম্পাদক ডা. এম এন আবদুল গফুর, আবছার মিয়া, মোজাম্মেল হক সিকদারসহ সংগঠনের সদস্যরা।
তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।