
১৬ ডিলারের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ; অনিয়ম প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলের আশ্বাস সংসদীয় কমিটির সদস্যের
মোঃ মাসুদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জন ডিলারের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে অনিয়মের অভিযোগ
সম্প্রতি দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বক্তাদের অভিযোগ, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জন ডিলারের মধ্যে অন্তত ১৩ জন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত অথবা তাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তাঁর কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তাঁরা।
সমাবেশে ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান (জিয়া) অভিযোগ করেন, তাঁর ইউনিয়নের একটি ডিও লেটার অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের এক নেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সী, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী মাসুদ হাসান এবং দেবিদ্বার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান মোল্লাসহ স্থানীয় নেতারা।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, কুমিল্লা বিভাগীয় কমিশনার, সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
এ ছাড়া ডিলার নিয়োগের তালিকায় দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সী ও সাইদুর রহমান লিটন, বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এফ এম তারেক, বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন এবং সাবেক সদস্য সচিব কাজী মাসুদ হাসানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অনিয়ম প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলের আশ্বাস
সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল জানিয়েছেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেয়। এতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, অর্থের বিনিময়ে ডিও লেটার বিক্রির অভিযোগ এবং বিতর্কিত নিয়োগ তালিকার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সার বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত জরুরি। তাঁদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে এবং সার বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ নিরসনে সহায়ক হবে।