মোঃ মাসুদ রানা; বিশেষ প্রতিনিধি ;
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও একটি বাগানের ৬০টি গাছ জোরপূর্বক কেটে সেখানে ঘর তোলে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ঠাকুর দাসের বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগী পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর নির্মাণে বাধা দেয়। এই ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও ভুক্তভোগীরা ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।
বৃহস্পতিবার (২২) অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের সাইতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির ৬০টি বড় গাছ কেটে সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ করছেন ঠাকুর দাসের লোকজন। এ সময় নির্মাণাধীন ঘরের আশপাশে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দলকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এসময় ভুক্তভোগী মাখন সরকার ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর নির্মাণে বাধা দিলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার তারা ঘর নির্মাণ করতে থাকে। এই ঘটনার পর এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী মাখন সরকার বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলমান থাকলেও প্রতিপক্ষ ঠাকুর দাস বহিরাগত গ্রামের ২০ থেকে ৩০ জন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে বিভিন্ন প্রজাতের অন্তত ৬০ টি গাছ কেটে সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ঠাকুর দাসের লোকজন পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, থানার একটি সালিসে বৈঠকে উচ্চ আদালতের মামলার রায় বা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে জমিতে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও দেবিদ্বার সার্কেল এসএসপিও দুই পক্ষকে নিষেধ করেছিলো। কিন্তু ঠাকুর দাস সকালে লোকজন নিয়ে গাছ কাটা শুরু করে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের মারধর করা হয়। পরে আমরা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে অবগতি করি। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মামলার রায় যে পক্ষেই আসুক, আমরা তা মেনে নেব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠাকুর দাস বলেন, এই জমি নিয়ে এখন দুই শতাধিক সালিস-দরবার হইছে। নিম্ন আদালতে আমি দুটি রায় পাই। এরপর তারা উচ্চ আদালতে আপিল করে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি চলমান রয়েছে। পুরো গ্রামবাসী নিয়ে আমরা গাছ কাটছি, তার পক্ষের কোন লোকজন নাই, পুরো গ্রাম আমার। আমার জায়গার গাছ আমি কাটছি এখানে ঘর তুলবো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা মোকাদ্দামা চলতেছে। এর আগে আমি দুই পক্ষের লোকজনদের সঙ্গে বসে চেষ্টা করেছি সমাধানের জন্য। কিন্তু সমাধান করতে পারেনি। এ নিয়ে অনেক বিচার শালিস হয়েছে। আমার কোন পক্ষ নাই, দুই পক্ষই আমার এলাকার লোক। যেহেতেু বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে মামলা নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্তÍ দুই পক্ষকে শান্ত থাকা উচিত।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জমান বলেন, আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় একটি বিরোধপূর্ণ জমির গাছ কাটা নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মাখন সরকার। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ওখানে এক পক্ষ ঘর তুলছে। আমি বলে দিয়েছি এখানে উল্টা-পাল্টা আচরণ যেন কেউ না করে। আইনশৃঙ্খলা যেন কোন বিঘ্ন না ঘটে, এটি কোর্টের মাধ্যমে ফায়সালা করতে বলেন।