৩০ দিনের তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল;
মোঃ মাসুদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
তিনি জানান, ৩০ দিনের তদন্ত শেষে গত ২০ অক্টোবর কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার অপ্রতীম হত্যা মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্র নম্বর ৩১৪। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার আলামত ও নথিপত্র আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাদীকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
অভিযোগপত্রে কার কী ভূমিকা রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি এখন আদালতের বিচার্য। এ বিষয়ে আপাতত বিস্তারিত কিছু বলা সমীচীন হবে না।
মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় হত্যা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার পরিকল্পনায় সিয়ামের জড়িত থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন বনে যায়। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত, উদ্ধার মোবাইল ফোন
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। অপ্রতীম ছিল তাঁদের একমাত্র সন্তান। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
‘খুনিদের দ্রুত সর্বোচ্চ সাজা চাই’
মামলার বাদী ও অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে, সেই আশা করছি। বয়সের ফারাকের কারণে যেন আসামিরা পার পেয়ে যেতে না পারে।”
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটি এখন দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।