রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
দেবিদ্বারে মাতম: গ্যাস বিস্ফোরণে নিভল একই পরিবারের তিন স্বপ্ন, নবদম্পতি ও ছোট্ট হাফসার মর্মান্তিক বিদায়; দেবিদ্বার পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিবর্তনের প্রত্যাশায় সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ জসিম উদ্দিন; এনায়েতপুরে রাতে ঘুমন্ত প্রবাসীর বাড়িতে হামলা: ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট, ঘরে অগ্নিসংযোগ; কাউখালীতে আল-খালিজ ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির ফল প্রকাশ ও মেধাবৃত্তি প্রদান, ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষায় আস্থার প্রতীক; কবিতা : বাংলার শোভা; কদমতলীতে বয়োবৃদ্ধ মায়ের ফ্ল্যাটে হামলা, বিদ্যুৎ-পানি কেটে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি; রাজনীতি ও সাংবাদিকতা—দুই অঙ্গনেই সক্রিয় এক সংগঠকের আত্মপ্রত্যয়; নওগাঁয় ছাত্রাবাসে কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার; কাউখালীতে আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিতচুরি-ডাকাতি-মাদক-কিশোর গ্যাং-চাঁদাবাজ-বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতার আহ্বান; ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনকে সাইদুর রহমান লিটল অভিনন্দন;

দেবিদ্বারে মাতম: গ্যাস বিস্ফোরণে নিভল একই পরিবারের তিন স্বপ্ন, নবদম্পতি ও ছোট্ট হাফসার মর্মান্তিক বিদায়;

  • Update Time : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত

​মোঃ মাসুদ রানা ;কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;

​মাত্র দেড় মাস আগের কথা। নতুন সংসার ঘিরে বুকভরা হাজারো স্বপ্ন আর একরাশ আশা নিয়ে স্বামী ও আট বছরের ছোট্ট ভাগনীকে সাথে করে রাজধানীতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফাহিমা আক্তার। ভেবেছিলেন, ইট-পাথরের শহরে নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমে গড়ে তুলবেন ভালোবাসার সুন্দর একটি নীড়। কিন্তু বিধাতা হয়তো লিখেছিলেন অন্য এক করুণ ইতিহাস! একটি অবহেলা আর গ্যাস লাইনের বিষাক্ত লিকেজ মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সব স্বপ্ন পুড়িয়ে ছাই করে দিল।
​কয়েক দিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবনের সাথে তীব্র পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবারে (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় না-ফেরার দেশে চলে গেলেন কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে ফাহিমা। একই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে বৃহস্প‌তিবার রা‌তে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন এবং শুক্রবা‌রে মারা যান প্রিয় ভাগনী হাফসা। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক বিদায়ে দেবিদ্বারে এখন বইছে শোকের মাতম, স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
​নিহত ফাহিমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ নানা পণ্যের অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল নিজের ব্যবসাকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার। সেই লক্ষ্যেই স্বামী শাহিনের হাত ধরে উঠে এসেছিলেন রাজধানীর বাড্ডার ভাড়া বাসায়। পরম মমতা আর মায়ের স্নেহে বড় করে তুলবেন—এই আশায় সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন বড় বোনের আট বছরের শিশুকন্যা হাফসাকে।
​পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের ৯ নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মীর্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির শাহিনের সাথে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের সাথে ঢাকায় পড়তে এসেছিল ফাহিমার ভাগনী হাফসা। গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ বাসাটায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে ঘটে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে দুটি কক্ষে।
​আগুনের জ্বলন্ত দাহে আশঙ্কাজনকভাবে দগ্ধ হন ফাহিমা, তার স্বামী শাহিন ও শিশু হাফসা। উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ফাহিমা কয়েক দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে শনিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যায় তার স্বামী ও সা‌থে থাকা ভাগনী হাফসা।
​দুর্ঘটনায় মৃত‌্যুর পর শুক্রবার বাদ মাগ‌রিব শিশু হাফসাকে দাফন করা হয় তার বাবার বাড়ি দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। আর শা‌হিন‌কে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রা‌মে তার পা‌রিবা‌রিক কবরস্থা‌নে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় দেবিদ্বার পৌর সদরের গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বাঙ্গুরী গ্রামে শাহিনের পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর পাশেই দাফন হয় ফাহিমার।
​মেয়েকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিতা গোলাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “বাসায় ওঠার পরপরই আমরা বাড়ির মালিককে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের এই কথাকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি! সময়মতো একটু ব্যবস্থা নিলে আজ আমার মা’টা বেঁচে থাকত। অবহেলার কারণে আজ আমার মেয়েকে হারালাম, আমি এই অবহেলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” তিনি আরও বলেন, “মেয়ের সাথে আমার বড় মেয়ের ঘ‌রের নাতনী হাফসাও ঢাকায় গিয়েছিল। ওদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ছিল আমাদের। কিন্তু সামান্য একটা অবহেলা আর অসাবধানতায় এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল।”
​ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ৯ নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য আবু হানিফ বলেন, “শাহিন ও ফাহিমা দম্প‌তির মৃত‌্যু‌তে আমরা এলাকাবাসী শোকাহত। নিজেদের কর্ম দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এক বুক আশা নিয়ে তারা ঢাকায় সংসার পেতেছিলেন। এভাবে একটি নবদম্পতি ও নিষ্পাপ শিশুর করুণ পরিণতি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews