ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা খাতুন (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন রাশিদুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনেরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভাঙ্গুড়া উপজেলার খাঁপাড়া এলাকায় সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে রাশিদুল ইসলাম বলেন, গত ২২ অক্টোবর মৃত রোজিনা খাতুনের বড় ভাই মো. দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর স্বজনেরা তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন এবং এ বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তাঁদের পরিবারের অবস্থান তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে রাশিদুল ইসলাম জানান, তাঁর চাচি রোজিনা খাতুনের স্বামী রফিকুল ইসলাম গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর রোজিনা খাতুন একাকী জীবনযাপন করছিলেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর রাতে রোজিনা খাতুন নিজ বসতঘরে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে বক্তব্যে জানানো হয়েছে।
অভিযোগে যাঁদের নাম উল্লেখ
রাশিদুল ইসলামের লিখিত বক্তব্যে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. হেলাল হোসেন ও মো. সোহেল রানার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের বাড়ি পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া এলাকায় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
রাশিদুল ইসলামের অভিযোগ, রোজিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এতে তাঁরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান স্বজনেরা
রাশিদুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনেরা জানান, তাঁরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চান। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁরা কোনো অন্যায়ের প্রশ্রয় চান না; বরং ঘটনার প্রকৃত সত্য প্রকাশ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানান তাঁরা।