রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
নওগাঁর রাণীনগরে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩; মনোহরদীতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থীর বিলবোর্ড সরানোর অভিযোগ; শিশিরভেজা ভোর আর কুয়াশা জড়ানো সকাল জানিয়ে দিচ্ছে ; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ; দেবিদ্বারে না জানিয়ে কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্তি: ফেসবুকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে; ভাঙ্গুড়ায় নারীর মৃত্যুর ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ; পদ্মায় মা ইলিশ শিকারে আট জেলে কারাদণ্ড, জব্দ ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল; লৌহজংয়ে শিক্ষার্থীদের এআই-দক্ষতা ও নৈতিক শিক্ষা গড়তে ‘আগামীর আলোর যাত্রা’ কর্মসূচি; ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে, তিন প্রাণহানি; আহত ১৬; তানোরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রস্তাবিত সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা; কবিতা-বাবার সাথে; শেখ হাসিনা দেশে ফিরবে বলে মাইকিং করাই নওগাঁয় দুই নেতা গ্রেফতার ; “আমি ছিলাম তোমার জীবনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায়” আত্রাইয়ে খেজুরগাছ ঝোড়ায় ব্যস্ত গাছিরা, অপেক্ষায় রস-গুড়ের মৌসুম কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতীম হত্যা মামলায় চার্জশিট, দ্রুত বিচারের দাবি বাবার; ইনসাফের বিপরীত হলো জুলুম, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ন্যায়বিচার জরুরি: জাহাঙ্গীর আলম; ২০৩০ সালে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা ; জামালপুরে সাংবাদিক মাসুদুর রহমানের ২৯তম জন্মদিন পালন; হলদিয়ার সাত মণ্ডপে লিনা পারভীনের সম্প্রীতির বার্তা, পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি; মুন্সীগঞ্জে আইবিডব্লিউএফের মতবিনিময় সভা, নৈতিক ব্যবসা গড়ার জোরালো আহ্বান;

সময়ের সিঁড়ি বেয়ে: ফুরিয়ে আসার বেলা;

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২৮ বার পঠিত




মোহাম্মদ মাসুদ রানা, কুমিল্লা

সময় ফুরিয়ে আসছে—কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই ছুটে চলা জীবনের হিসাবটা আমরা কীভাবে মেলাই? জীবন কখনো থেমে থাকে না। সময়ের স্রোতও কারও জন্য অপেক্ষা করে না। অথচ আমরা প্রতিদিনের ব্যস্ততায় এমনভাবে ছুটে চলি, যেন সামনে পড়ে আছে অনন্তকাল।

আমাদের শৈশব কিংবা কৈশোরের বাসাটি ছিল চারতলা। তখন দিনে কতবার যে সেই সিঁড়ি দিয়ে ওপর-নিচ করেছি, তার কোনো হিসাব ছিল না। হুড়মুড় করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে যাওয়া, আবার দৌড়ে নিচে নেমে আসা—সবই ছিল জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তখন কে ভেবেছিল, এই ছোট্ট সিঁড়িটিই একদিন জীবনের বড় এক দর্শন হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়াবে?

জীবনের কোনো এক বাঁকে এসে হঠাৎ টের পাওয়া যায়—সেই অবলীলায় সিঁড়ি ভাঙার শক্তি আর শরীরে নেই।

আজ চারতলার ফ্ল্যাটে উঠতে গিয়ে যখন হাঁপিয়ে উঠি, তখন অজান্তেই মনে দোলা দেয় এক অচেনা শূন্যতা। মনে হয়, এই তো সেদিনও সময় ছিল অফুরান। তারুণ্যের শক্তির যেন কোনো শেষ ছিল না। অথচ প্রতিদিন না জেনেই যে সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসেছি, আজ বয়সের ভারে সেই ধাপগুলোই কেমন কঠিন মনে হয়।

জীবন এভাবেই নীরবে তার পাতা উল্টে দেয়। আমরা টেরও পাই না—কখন যৌবনের দৃঢ় দেয়ালে বয়সের প্রথম ফাটল ধরে, কখন চুলে রুপালি আভা নামে, কখন আয়নায় চেনা মুখটির ওপর অচেনা বয়সের ছাপ পড়ে।

সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ যেন জীবনের একেকটি অধ্যায়। কোনো ধাপে শৈশব, কোনো ধাপে কৈশোর, কোথাও তারুণ্য, কোথাও সংসার, দায়িত্ব আর সংগ্রাম। একসময় ওপরে ওঠার তাড়নায় ক্লান্তি আমাদের স্পর্শ করত না। সামনে ছিল স্বপ্ন, লক্ষ্য আর অসংখ্য সম্ভাবনা।

আজ সেই একই সিঁড়িতে পা ফেলতে গিয়ে যখন হাঁটু কেঁপে ওঠে, তখন নিচতলার সেই চিরচেনা দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। মনে হয়, জীবনটা আসলে কত দ্রুত তার অন্তিম অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে!

চোখের পলকে কেটে যায় বছর। যে মানুষটি একসময় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখত, একদিন সেই মানুষটিই আয়নায় নিজের অতীতের মুখ খুঁজতে থাকে।

এই যে মুহূর্তগুলো হাত ফসকে গলে যাচ্ছে—এর পেছনে কি কোনো গভীর অনুশোচনা আছে? নাকি এটাই প্রকৃতির নির্মম অথচ চিরন্তন নিয়ম?

আমরা সময়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে কখন যে ভুলে যাই—সময়ও নীরবে আমাদের পেছনে ছুটছে। ক্যারিয়ার, অর্থ, ব্যস্ততা, সামাজিক অবস্থান আর বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতায় আমরা এমন এক মায়াজালে আটকে পড়ি যে, একসময় পেছনে ফিরে তাকানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

তখন মনে পড়ে যায় ফেলে আসা সেই সোনালি দিনগুলোর কথা। মনে পড়ে শৈশবের হাসি, কৈশোরের দুরন্তপনা, প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো বিকেল, হারিয়ে যাওয়া মানুষ আর ফিরে না আসা অসংখ্য মুহূর্ত।

এই সিঁড়িগুলো শুধু ইট-পাথরের তৈরি নয়—এগুলো আমাদের বেড়ে ওঠার নীরব সাক্ষী। আমাদের পাওয়া-না পাওয়ার গল্প, আনন্দ-বেদনা, স্বপ্ন-ভাঙা ও নতুন করে স্বপ্ন দেখার ইতিহাস যেন লুকিয়ে আছে প্রতিটি ধাপে।

একদিন হয়তো এই চারতলার সিঁড়িগুলো আর আমাদের চেনা থাকবে না। হয়তো পৃথিবীর ধুলোয় আমাদের পদচিহ্নও একসময় মুছে যাবে। কিন্তু প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো, ভালোবাসার স্মৃতি আর হৃদয়ে জমে থাকা অমলিন অনুভূতিগুলো হয়তো থেকে যাবে—কোনো না কোনো মানুষের স্মৃতিতে, কোনো গল্পের ভাঁজে, কিংবা প্রকৃতির নীরব বুকের ভেতর।

জীবন সত্যিই কঠিন। আবার একই সঙ্গে অদ্ভুত এক রহস্যময় মায়ায় ঘেরা। সময়ের সিঁড়ি বেয়ে আমরা সবাই একদিন না একদিন শেষ ধাপটির কাছে পৌঁছে যাব।

তাই ফুরিয়ে আসার আগে জীবনটাকে একটু অনুভব করা দরকার। ব্যস্ততার ভিড়ে প্রিয় মানুষটিকে একটু সময় দেওয়া দরকার। অভিমান জমিয়ে না রেখে ভালোবাসার কথাটি বলে ফেলা দরকার। কারণ সময় চলে গেলে সিঁড়ির ধাপগুলো হয়তো আবার সামনে থাকবে, কিন্তু ফিরে আসবে না সেই মানুষগুলো, সেই দিনগুলো, সেই মুহূর্তগুলো।

শেষ পর্যন্ত হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন সম্পদ নয়, পদ-পদবি নয়—বরং আমরা কতটা ভালোবাসা দিয়ে গেছি, কতগুলো হৃদয়ে নিজের জন্য একটি সুন্দর স্মৃতি রেখে যেতে পেরেছি।

সময়ের সিঁড়ি বেয়ে আমরা সবাই এগিয়ে চলেছি। কেউ দ্রুত, কেউ ধীরে। কিন্তু গন্তব্য সবারই এক।

ফুরিয়ে আসার এই বেলায় তাই প্রশ্ন একটাই—শেষ ধাপে পৌঁছানোর আগে, জীবনকে আমরা সত্যিই কতটা বাঁচতে পেরেছি?

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews