
সাংবাদিকতা কেন ফুল বিছানো পথ নয়;
মোঃ জহিরুল ইসলাম;সম্পাদক ও প্রকাশক ;
সাংবাদিকতা—শুধু একটি পেশা নয়; এটি সত্য, ন্যায় ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক মহান দায়িত্ব। অনেকেই দূর থেকে সাংবাদিকতার পেশাকে সম্মান, পরিচিতি ও প্রভাবের ফুল বিছানো পথ হিসেবে দেখেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাংবাদিকতার পথ কখনোই ফুল বিছানো নয়; বরং এ পথ বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ও কাঁটায় ভরা।
একজন সাংবাদিককে প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে ছুটতে হয়। কখনো মাঠে, কখনো দুর্গম এলাকায়, কখনো গভীর রাতে—তথ্য সংগ্রহের জন্য নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের চাপ, হুমকি, মামলা, সামাজিক বিরোধিতা কিংবা নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা। একটি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, একাধিক পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা জরুরি। সামান্য ভুল তথ্যও একজন মানুষের সম্মান, একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি কিংবা পুরো সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার সামনে আরও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর সংবাদ এবং দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতা সাংবাদিকদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে পেশাদারিত্বের অভাব ও সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও পুরো পেশার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
তবুও একজন প্রকৃত সাংবাদিক থেমে থাকেন না। কারণ তার দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশ করা নয়; সমাজের অসংগতি তুলে ধরা, নিপীড়িত মানুষের কথা বলা, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা এবং সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরা।
সাংবাদিকতার পথে তাই ফুলের চেয়ে কাঁটাই বেশি। এই পথ বেছে নিতে হলে সাহস, সততা, দায়িত্ববোধ, ধৈর্য ও পেশাগত নৈতিকতা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর মানসিকতাই একজন সাংবাদিককে প্রকৃত সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
সাংবাদিকতা সহজ পেশা নয়। এটি দায়িত্বের, ত্যাগের এবং ঝুঁকির পথ। যারা এই পেশায় আসবেন, তাদের মনে রাখতে হবে—ফুলের সৌন্দর্যের চেয়ে কাঁটার আঘাতই এ পথের বাস্তবতা বেশি। আর সেই কাঁটা পেরিয়েই একজন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক মানুষের আস্থা ও ইতিহাসে নিজের জায়গা তৈরি করেন।