
কাউখালীতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা,প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন;
মোঃ নুরুজ্জামান খোকন; কাউখালী(পিরোজপুর);
শিক্ষক সংকট,প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের জটিলতায় জাতীয় স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতির আয়োজনে ৫৩তম জাতীয় স্কুল,মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত ছিটকে পড়েছে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও সরকারি কাউখালী গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বালক বিদ্যালয় ও সরকারি সত্যেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী এবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। এতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
শনিবার ও রোববার (৫ও৬ সেপ্টেম্বর) চারটি ইভেন্টে দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং রোববার বিকেলে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিলেও সরকারি দুটি বিদ্যালয়ের মাঠ ছিল শিক্ষার্থীশূন্য।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা থাকার পরও এবার তারা গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছে। এতে শুধু বিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমই বাধাগ্রস্ত হয়নি,প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরাও নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে উঠে আসার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন,উপজেলার প্রায় সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরছে, তখন শিক্ষক সংকটসহ নানা কারণে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠে নামতেই পারেনি। এভাবে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
সরকারি কাউখালী গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার বলেন, “বিদ্যালয়ে ১৭জন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ৫জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে শরীরচর্চা শিক্ষকের পদও শূন্য। একজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে শরীরচর্চার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে যেখানে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার অর্জন করছে, সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগই পায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অন্যদিকে সরকারি সত্যেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন হাওলাদার বলেন,“আমাদের বিদ্যালয়ে ১৭ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭জন। শরীরচর্চা শিক্ষককে শ্রেণির পাঠদানের পাশাপাশি নতুন কুঁড়ি ও প্রধানমন্ত্রীর ফুটবল টুর্নামেন্টের নিবন্ধন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এ কারণে সময়মতো তালিকা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে তাদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অংশগ্রহণের অনীহা তৈরি হয়েছে। শরীরচর্চা শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও উপজেলার বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কমিটিতে আমাদের বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।”
তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান বলেন,“উপজেলার সরকারি দুটি বিদ্যালয় থেকে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কোনো শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। তারা কী কারণে অংশ নেয়নি,সে বিষয়ে তারাই বলতে পারবেন। বিদ্যালয় দুটি অংশ নিলে প্রতিযোগিতাটি আরও উৎসবমুখর হতো। আশা করছি,পরবর্তী সব প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।”
শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগও রয়েছে। ফলে শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ক্রীড়া কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দাবি,দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন এবং ক্রীড়া কার্যক্রমে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।