“জুয়া খেলা নিয়ে পারিবারিক মনোমালিন্যের কথা জানালেন স্ত্রী,মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ”
মো: নুরুজ্জামান খোকন কাউখালী(পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালীতে স্বপন দেবনাথ (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজার নবমীর দিন উপজেলা সদরে থানা সংলগ্ন শ্রীশ্রী মদনমোহন জিউর আখড়াবাড়ি পূজামণ্ডপের পশ্চিম পাশে সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকায় একটি রেইনট্রি গাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত স্বপন দেবনাথ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার ছোনাউটা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত কার্তিক দেবনাথ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাউখালী উপজেলার উত্তর বাজার এলাকায় দেবেন্দ্রনাথ দেবনাথের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। সেখানে ‘শ্রুতি টেইলারিং শপ’ নামে তাঁর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। তাঁর স্ত্রী শিপ্রা দেবনাথ ‘শ্রুতি বিউটি পার্লার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁদের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র কন্যাসন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বপন বাসা থেকে বের হন। পরে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে পূজামণ্ডপসংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকার একটি রেইনট্রি গাছে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর গলা থেকে রশি কেটে মরদেহ উদ্ধার করে, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী শিপ্রা দেবনাথ জানান,তাঁর স্বামী মোবাইল ফোনে জুয়া খেলায় মগ্ন থাকতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হতো। ঘটনার দিন সকালে তিনি স্বামীর মোবাইল ফোনটি জোর করে নিয়ে লুকিয়ে রাখেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বপন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান,ঘটনার দিন সকালে স্বপন একবার তাঁর দোকান খুলেছিলেন। দুপুর ১২টার পরেও তাঁকে পূজামণ্ডপের পাশের একটি দোকানে ওঠাবসা করতে দেখা যায়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী,স্বপনকে প্রায়ই মোবাইল ফোনে জুয়া খেলতে দেখা যেত। মাঝেমধ্যে ঘুমের ট্যাবলেট সেবনের পর তাঁকে রাস্তায় টালমাটাল অবস্থায় চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো.এবাদ আলী মোল্লা বলেন, “লোকমুখে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত একটি পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মরদেহের ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা,নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে,তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।