
দুর্যোগ মোকাবিলা মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত;
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
“দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সঠিক সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতিই জীবন ও সম্পদ রক্ষার প্রধান হাতিয়ার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালীতে উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস।
১৩ই অক্টোবর বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা চত্বর ও হলরুমে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি,বাস্তবিক মহড়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও নেতৃত্ব প্রদান করেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আখতার।
বর্ণাঢ্য র্যালি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্র্যাকটিক্যাল মহড়া,অনুষ্ঠানের সূচনায় উপজেলা চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা চত্বরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল প্রশিক্ষিত কর্মী ভূক্যাম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে একটি রোমাঞ্চকর ও শিক্ষণীয় বাস্তবিক মহড়া প্রদর্শন করেন। কিভাবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং দুর্যোগের সময় আত্মরক্ষা ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে হয়,মহড়ায় তা বাস্তবিকভাবে তুলে ধরা হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আখতার বলেন:”জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগ এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রকৃতির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতির মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমান সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় অত্যন্ত টেকসই ও আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে আমাদের শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদেরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশলে দক্ষ করে তুলতে পারলে আমরা একটি নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল সমাজ গঠন করতে পারব।”
অনুষ্ঠানে কাউখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ মফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে দপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন:
”উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় মূলত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস,তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বিশেষ করে উপকূলীয় ও দরিদ্র পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিই। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার, টিআর,কাবিখা এবং অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেন কোনো দরিদ্র পরিবার নিঃস্ব হয়ে না পড়ে এবং প্রতিটি দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।”
অন্যান্যদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা,প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,বিআরডিপি কর্মকর্তা, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা,রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক- শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে দুর্যোগ সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।